প্রোগ্রামারদের অনেকক্ষণ ধরে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকতে হয়। কম্পিউটারের কিবোর্ড, মাউস বা স্ক্রিন দীর্ঘকাল ব্যবহার করতে থাকলে হাতের বাহু, কবজি, কাঁধ বা ঘাড়ের মাংসপেশি, রগ কিংবা স্নায়ুতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে RSI (Repetitive Strain Injury)। এসব সমস্যা ছাড়াও দেখা দিতে পারে CVS বা Computer Vision Syndrome অর্থাৎ দীর্ঘসময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে চোখের সমস্যা।
এই সমস্যার চিকিৎসা আসলে তেমন একটা নেই, অর্থাৎ সাধারণ প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ, ইবুপ্রফেন ইত্যাদি RSI এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় চিকিৎসক ফিজিওথেরাপিস্ট এর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে সমস্যা খুব বেশি হলে তা মারাত্মক ক্ষতি করে দিতে পারে আর চিকিৎসাতে দেরি হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যাতে পারে। আবার CVS এর ফলে চোখের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। তাই সমস্যা হওয়ার আগেই সমাধান করতে হবে। তার মানে কিছু সাবধানতা মেনে চলতে হবে। যেমন:
পিঠ সোজা রাখা:
পিঠকে চেয়ারের সাথে লাগিয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য চেয়ারে হেলান দিয়ে সোজা হয়ে বসতে হবে।
চেয়ারের উচ্চতা ঠিক রাখা:
চেয়ারের উচ্চতা ঠিক রাখতে হবে। অর্থাৎ চেয়ারের উচ্চতা যাতে খুব বেশি বা খুব কম না হয়ে যায়। চেয়ারকে এমনভাবে রাখতে হবে যেন চেয়ারে বসার পর সামনে তাকালেই পুরো স্ক্রিন দেখা যায়।
পায়ের পাতা নিচে রাখা:
বসার সময় পায়ের পাতা যাতে মাটির সাথে বিশ্রাম অবস্থায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে পায়ের মাংসপেশি শিথিল হতে পারবে।
চোখ বরাবর স্ক্রিন রাখা:
স্ক্রিনকে চোখ বরাবর বা চোখকে স্ক্রিন বরাবর বসাতে হবে। এতে চোখের উপর চাপ পড়বে না। ফলে CVS এর আশঙ্কা কমে যাবে।
কিবোর্ডের অবস্থান:
কিবোর্ডকে ঠিক সামনে রাখতে হবে। ল্যাপটপ এর ক্ষেত্রে ল্যাপটপকে ঠিক সামনে সোজাসুজি বসাতে হবে।
মাউসের অবস্থান:
মাউস যাতে হাতের কাছেই থাকে। মাউস দূরে থাকলে কিন্তু কাজ করতে গিয়ে টান বা চাপ পড়তে পারে।
স্ক্রিন হতে দূরত্ব:
কম্পিউটারের স্ক্রিনটি চোখ থেকে ৫০-৬০ সেমি দূরে রাখতে হবে। বেশি কাছে থাকলে চোখের ক্ষতি হবে। আবার দূরে থাকলে চোখের উপর চাপ পড়বে।
হাতের নাগালে সবকিছু:
কাজ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা যেন হাতের কাছেই থাকে। কেননা অনেক সময় কোনো জিনিসের প্রয়োজন হলে অজান্তেই আমরা বসে থেকেই ঐ জিনিসটি নিতে চাই। তখন মাংসপেশি বা রগে টান পড়তে পারে। তাই হাতের নাগালে সবকিছু থাকলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে বাঁচা যাবে।
আলোর প্রতিফলন:
কম্পিউটার স্ক্রিনে আলোর প্রতিফলন যাতে না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। এজন্য মাথার পিছনে যাতে আলোর উৎস না থাকে তা খেয়াল রাখলেই চলবে।
বিশ্রাম:
কম্পিউটারে কাজ করার মাঝে মাঝে আধা ঘণ্টা পর পর ৫ মিনিটের জন্য হলেও বিশ্রাম নিতে হবে। প্রয়োজনে ঘাড় ও কাঁধকে আরাম দিতে সোজা হয়ে শুয়ে থাকতে হবে। প্রতি ১০ মিনিট পর পর কিছুক্ষণের জন্য দূরে কোথাও কোনো নির্দিষ্ট কিছুর দিকে তাকাতে হবে। সম্ভব হলে সবুজ গাছের দিকে তাকানো যায়। এতে চোখ আরামবোধ করবে।
হালকা ব্যায়াম:
প্রতিদিন হালকা কিছু ব্যায়াম করা যেতে পারে। ভারি ব্যায়াম করার দরকার নাই। হালকা ব্যায়াম যেমন জগিং, স্ট্রেচিং, ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম বা সাইক্লিং করা যেতে পারে। এতে মন আর শরীর দুইই ভালো থাকবে। আর এই সমস্যা থেকেও বাঁচা যাবে বলে আশা করা যায়।
লেখক: রীশাদ মোশাররফ হৃদ্য, প্রেসিডেন্ট, Learn To Code Foundation
